পাখির কাছে ফুলের কাছে (সপ্তদশ অধ্যায়) (আল মাহমুদ)

কবিতা - চারুপাঠ - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

5.5k

পাখির কাছে ফুলের কাছে
আল মাহমুদ

নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
ডাবের মতো চাঁদ উঠেছে ঠান্ডা ও গোলগাল।
ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর।
মিনারটাকে দেখছি যেন দাঁড়িয়ে আছেন কেউ,
পাথরঘাটার গির্জেটা কি লাল পাথরের ঢেউ?
দরগাতলা পার হয়ে যেই মোড় ফিরেছি বাঁয়
কোথেকে এক উটকো পাহাড় ডাক দিলো আয় আয়।

পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে লালদিঘির ঐ পাড়
এগিয়ে দেখি জোনাকিদের বসেছে দরবার।
আমায় দেখে কলকলিয়ে দিঘির কালো জল
বললো, এসো, আমরা সবাই না-ঘুমানোর দল-
পকেট থেকে খোলো তোমার পদ্য লেখার ভাঁজ
রক্তজবার ঝোঁপের কাছে কাব্য হবে আজ।
দিঘির কথায় উঠল হেসে ফুল পাখিরা সব
কাব্য হবে, কাব্য কবে-জুড়লো কলরব।
কী আর করি পকেট থেকে খুলে ছড়ার বই
পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ফুল, পাখিকে নিয়ে কবিতা লিখে
ফুল, পাখির সাথে কথা বলে
জোনাকিদের দরবারে আসর বসিয়ে
দিঘির জলের সঙ্গে কলরব জুড়ে দিয়ে
উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

কলেজের শিক্ষাসফরে রিমি বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবানে বেড়াতে এসেছে। বান্দরবানের বড় বড় পাহাড় ও প্রকৃতির সৌন্দর্য রিমিকে বিমোহিত করে। প্রকৃতির এ নিসর্গের মাঝে রিমির হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।

জড়প্রকৃতি বর্ণনায়
জীবপ্রকৃতি বর্ণনায়
প্রকৃতি বর্ণনায়
প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতি মমত্ববোধ

গোলগাল - জ্যোৎস্নামাখা পূর্ণিমায় গোল চাঁদকে ডাবের মতো কল্পনা করে কবি তুলনার চমৎকারিত্ব সৃষ্টি করেছেন।
থরথর - কেঁপে ওঠার ভাব বোঝায় এমন শব্দ। এখানে শব্দটি সৌন্দর্য ও আবেগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
মিনার - মসজিদের উঁচু স্তম্ভ। গম্বুজযুক্ত দালান।
গির্জে - খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়।
উটকো - অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রত্যাশিত। এখানে মমত্বের অনুভূতি বোঝাতে উটকো শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
দরবার - রাজসভা। জলসা। এখানে আনন্দ-আসর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
কলকলিয়ে - কলকল ধ্বনি করে।
পদ্য লেখার ভাঁজ - ভাঁজ করে রাখা কবিতা লেখা কাগজ।
কলরব - কোলাহল।

Content added By

শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিসর্গপ্রীতি জাগ্রত করা।

Content added By

'পাখির কাছে ফুলের কাছে' শীর্ষক কবিতাটি আল মাহমুদের 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই কবিতায় কবির নিসর্গপ্রেম গভীর মমত্বের সঙ্গে ফুটে উঠেছে।
এই কবিতায় কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। প্রকৃতি যেন মানুষের পরম আত্মীয়, সখা। কবি মনোরম সেই প্রকৃতির আহ্বান শুনতে পান। জড় প্রকৃতি আর জীব- প্রকৃতির মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান কবি সেই সম্পর্কের সৌন্দর্য ও আনন্দ অনুভব করেন। আর তাঁর ছড়া-কবিতার খাতা ভরে ওঠে প্রকৃতির সেই সৌন্দর্য ও আনন্দের পঙ্ক্তিমালায়।

Content added By

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জর্জ সিক্সথ স্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা পাস করেন। সাংবাদিকতা ও চাকরি ছিল তাঁর পেশা। তিনি 'গণকণ্ঠ' ও 'কর্ণফুলী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। মাঝের দীর্ঘ সময় তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে চাকরি করেন এবং পরিচালক হিসেবে ১৯৯৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বই হলো- 'লোক-লোকান্তর', 'কালের কলস', 'সোনালি কাবিন', 'মায়াবী পর্দা দুলে উঠো', 'মিথ্যাবাদী রাখাল', 'একচক্ষু হরিণ', 'আরব্য রজনীর রাজহাঁস', 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' ইত্যাদি।
সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদকসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ২০১৯ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

Content added By

১. কবিতাটির বিভিন্ন অংশ অবলম্বনে একাধিক ছবি আঁক।
২. প্রকৃতি নিয়ে (ফুল-পাখি-লতা-পাতা, নদ-নদী) ছড়া-কবিতা লিখতে চেষ্টা কর। তোমার প্রিয় কোনো কবিকে অনুসরণ করেও লিখতে পার।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...